AUTHOR

একটা কম বয়সী বাচাল, একরোখা, জেদী, লাজুক, বাংলা মিডিয়াম স্কুলের যেচে বাঁশ নেওয়া সাইন্সের ছাত্র।
আরো জানবেন ফেসবুক আছে তো
��

11/06/2018

সাইকোপ‍্যাথিক ভালোবাসা


     প্রতিদিনের মতো ছেলেটা দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে সে দোকানটায় এসে...
প্রত্যেকদিন বিকেলবেলায় ছাদের উপর থেকে বর্ষা নিয়মিত ছেলেটিকে ফলো করে...
ছেলেটিকে দেখতে কেমন যেন মায়াময়...কী যেন আছে ছেলেটির চেহেরায়...কেমন যেন এক ভালোলাগা কাজ করে তার চেহেরার দিকে তাকিয়ে থাকলে..
প্রতিদিনই ভাবে বর্ষা আজ গিয়ে ছেলেটির সাথে কথা বলবোই...কিন্তু কেন যেন কথা বলা হয়ে উঠে না তার...যদি ছেলেটি কিছু মনে করে বা ছেলেটি যদি কথা না বলে তখন তো বর্ষার অনেক অপমানিত বোধ হবে...
আচ্ছা ছেলেটিকে ছাদে ডেকে আনলে কেমন হয়..?
এসে আমার সাথে গল্প করলে খুব ভালো হতো..
হঠাৎ বর্ষার চিন্তায় ছেদ পড়লো...
ছেলেটি চলে যাচ্ছে..বর্ষা মোবাইলে দেখলো সেই একই সময়ে উঠে চলে যাচ্ছে ছেলেটা...প্রতিদিনের মত আজো ২০ মিনিট সে দোকানে বসেছিল...
সে কি টিউশনি করে...?
কিন্তু দেখতে কেমন যেন পাগলাটে টাইপের...?
টিউশনি না করলে সে রোজ একই সময়ে উঠে চলে যায় কেন...?
নাকি তার গার্লফ্রেন্ড আছে...?সে কি তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে...?
উফফ...মাথায় আর আসছে না..আর ভাবতেও পারছি না তাকে নিয়ে...তাকে নিয়ে আমার এত ভাবার কি আছে...?
কাল এলেই তার সাথে কথা বলে জেনে নেব তার পরিচয় ঠিকুজিকোষ্ঠী...
পরেরদিনও ঠিক একই সময়ে ছেলেটি এলো যথারীতি.. ছেলেটি সিগারেট ধরানোর আগেই বর্ষা ডাক দিল ছাদ থেকে...
--- এই যে শুনছেন...?আমি আসছি..(বর্ষা)
ছেলেটি কি না বুঝে হতভম্বের মত দাঁড়িয়ে রইল...
বর্ষা ছাদ থেকে নেমে ছেলেটির কাছে এলো...
--- হাই..আমি বর্ষা..আপনি..?
--- আমি অনিরুদ্ধ...সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়লো একরাশ...
ছেলেটি কেমন যেন মনে মনে ভাবতে লাগলো বর্ষা..নীল নীল আয়ত চোখ...ঘন জোড়া ভুরু তার..কেমন যেন অন্তর্ধানি চাহনী ছেলেটির..দেখতে কেমন যেন শিরশিরানি অনুভূত হয় মনের মধ্যে..এটা কি ভয়ের না কৌতুহলের শিহরণ তা বুঝতে পারে না বর্ষা...
--- আপনি কিসে পড়ছেন...?থাকেন কোথায়..?(বর্ষা)
--- পড়ালেখা শেষ..আপাতত একটা ফার্মে আছি আর আমি (আংগুল দেখিয়ে) ওই দিকেই থাকি...(অনিরুদ্ধ)
--- নামতো আগেই বললাম,,আমি বিবিএ তে পড়ছি শেষ বর্ষ..এই যে বাড়িটা দেখছেন এটা আমাদেরই..(বর্ষা)
--- হুম...(অনিরুদ্ধ)
--- আজ যাই...পরে কোন একসময় আবার কথা হবে..(অনিরুদ্ধ)
--- ওকে..ভালো থাকবেন...(বর্ষা)
এভাবেই শুরু হয় তাদের পরিচয়..প্রায় প্রতিদিনই তাদের মাঝে কথা হত..কিন্তু মেয়েটি একটু বেশি বকবক করতো..ছেলেটি চুপচাপই থাকতো..
মোবাইল নাম্বার বিনিময় হয় তাদের মাঝে..রাতে বা যেকোন সময় মেয়েটি কল করে ছেলেটির খোঁজ খবর নিত..এভাবে মেয়েটি আস্তে আস্তে প্রেমে পড়ে যায় ছেলেটির..মেয়েটির বাসায় ছেলেটির ব্যাপারে সবকিছুই শেয়ার করে...বর্ষার বাসার সবাই ছেলেটিকে দেখতে চায়..
কিন্তু অনিরুদ্ধ কে বললে সে কেমন যেন একটা গা ছাড়া ভাব দেখাতো..অনিরুদ্ধও বর্ষাকে ভালোবাসতো..কিন্তু সে বর্ষার মত মুখ ফুটে কিছু বলতো না..কারণ অনিরুদ্ধের অতীত রেকর্ড এতো ভালো কিছু ছিল না..
বর্ষাও কোনদিন অনিরুদ্ধের অতীতের ব্যাপারে জানতে চায় নি..
একদিন জোর করেই অনিরুদ্ধকে তার বাসায় নিয়ে গেল বর্ষা..




অনিরুদ্ধকে দেখে বর্ষার বাসার সবাই মোটামুটি রাজী হয়ে গেল একপ্রকার..অনিরুদ্ধকে দেখে পছন্দ হলো সবার...
অনিরুদ্ধের ফ্যামিলির বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে তার মা ছাড়া আর কেউ নেই..
মাকে নিয়ে আসতে বলা হল বর্ষাদের বাড়িতে..
অনিরুদ্ধ আসবে বলে সেদিনের মত বর্ষার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল..
এর পর দুদিন অনিরুদ্ধ আর সেই দোকানটাতে এলো না..বর্ষা কেমন যেন ছটফট করেছিল এই দুদিন..
এর পরের দিন অনিরুদ্ধ এলো...
--- কোথায় ছিলে এই দুদিন...?(বর্ষা)
--- একটু কাজ ছিল.. তাই আসতে পারিনি..(অনিরুদ্ধ)
--- আসবে না যে কল করে বলতে পারতে.. তুমি তো জানোই আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি..(বর্ষা)
--- আমিও তো বাসি..কেন তুমি তা বুঝতে পারো না..?(অনিরুদ্ধ)
--- আচ্ছা বাদ দাও..মাকে নিয়ে কবে আসছো আমাদের বাসায়..?বিয়ে করছো কবে...?(বর্ষা)
--- এই তো কিছুদিন পরই আসব..হাতের ঝামেলা গুলো শেষ করে নেই..(অনিরুদ্ধ)
--- জানো,,তোমার সাথে কথা না বলে আমি একটুও থাকতে পারি না..মনে হয় তুমি আমায় জাদু করেছো..(বর্ষা)
--- (একটু হেসে) আচ্ছা তাই নাকি..?শোনো আমি আসছি.. কাজ আছে একটু...(অনিরুদ্ধ)
--- যাও সাবধানে..রাতে কথা হবে..বাই..(বর্ষা)
--- বাই..(অনিরুদ্ধ)
সেদিনের পর থেকে বর্ষা আর অনিরুদ্ধের মাঝে আর কোনদিন কথা হয় নি...
বর্ষা কল করে দেখে নাম্বার বন্ধ...
ছাদ থেকে প্রতি বিকেল বেলায় সে দোকানটার উপরে নজর রাখে..কিন্তু ফলাফল শূণ্য...অনিরুদ্ধ আসে না..
একদিন দুদিন তিনদিন এভাবে প্রায় ৬ দিন কেটে গিয়েছে...নাম্বারও বন্ধ এবং অনিরুদ্ধ দোকানেও আর আসে না...বর্ষা প্রায় পাগলের মত হয়ে যেতে থাকে..
কিছুই ঠিকমত যাচ্ছে না বর্ষার..
একদিন নিচে নেমে সেই দোকানটার সামনে এসে দাঁড়ায়..দোকানিকে জিজ্ঞেস করে ছেলেটি এই কয়েকদিনে কখনো এসেছিল কিনা..দোকানি তাকে একটা চিঠি হাতে ধরিয়ে দেয়..বর্ষা চিঠিটি হাতে নিয়ে বাসার ছাদে এসে পড়তে শুরু করে...
বর্ষা,,
জানি অবাক হচ্ছো তবুও আমার এছাড়া আর কোন উপায় ছিল না তোমার সাথে যোগাযোগ করার..তুমি আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না আর আমিও তোমায় কোনদিন বলতে পারি নি...আসলে তোমার ভালোর জন্যই আমি তোমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছি...



আমার জন্য জীবনে ভালোবাসা আসে নি..বা হয়তো ভালোবাসা আমার জন্য অনেকটা পাপ স্বরূপ..যেদিন তোমায় দেখেছিলাম আমি সেদিনই বুঝেছিলাম তুমি আমায় পছন্দ করো..আমিও করেছিলাম..কিন্তু আমাদের এই মিলন কখনোই হবার নয়..আমি যা তোমায় সামনে বলতে পারি নি তা এখানে লিখে দিলাম আমার সম্পর্কে...
আমি একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষ..আমার এর আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল..কিন্তু আমি তাকে নিজ হাতে খুন করেছি..বহুদিন আমার চিকিৎসা চলেছিল..কিন্তু আমি জানতাম আমার এই রোগ কখনো ভালো হবার নয়..ডাক্তার বলেছিল যাকে খুব ভালোবাসবো তাকে হারানোর ভয় থেকেই আমার এই খুনী স্বভাবের জন্ম দিয়েছিল..হয়তো আমি তোমায় আস্তে আস্তে ভালোবেসে ফেলি..আর আমি এটাও বুঝতে পারি যে তোমায়ও কোন একদিন আমি খুন করে ফেলতাম হারিয়ে ফেলার ভয়ে..তাই তোমার সাথে আমার বিয়ে কখনোই সম্ভব নয়..তাই আমি নিজেকেই আড়াল করে নিলাম তোমার কাছ থেকে...তোমার বেঁচে থাকার জন্যই আমার ভালোবাসাকে নিজ হাতে হত্যা করলাম...
জানি না কথাগুলো কিভাবে নিয়েছো তুমি কিন্তু শুধু একটা কথাই বলব,,আমায় ভুলে যাও..আর সবকিছু কারো সাথে নতুন করেই শুরু করো..ভালো থেকো নিজের যত্ন নিও...
ইতি---
অনিরুদ্ধ

চিঠিটি পড়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো বর্ষা...আর বিধাতার কাছে জবাব চাইতে লাগলো,,
ভালোবাসা এমন কেন...?
ভালোবেসে কেন কষ্ট পেতে হয়...?
-------------সমাপ্ত---------------



Author:- Tanvir Khan
আমাদের Facebook গ্রুপে জয়েন করুন এরকম আরও অসাধারণ গল্প পড়া ও লেখা পাঠানোর জন্য।
Touch here for join

No comments:

Post a Comment