AUTHOR

একটা কম বয়সী বাচাল, একরোখা, জেদী, লাজুক, বাংলা মিডিয়াম স্কুলের যেচে বাঁশ নেওয়া সাইন্সের ছাত্র।
আরো জানবেন ফেসবুক আছে তো
��

27/05/2018

ঘুমকাতুরে

                  -:  ঘুমকাতুরে   :-



টিফিন পিরিয়ডে সবাই যখন খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত, তখন আমি ব্যাগ থেকে ছোট বালিশটা বের করে জায়গা খুঁজি একটু ঘুমানোর।পিছনের ব্যাঞ্চ টা খালি আছে দেখেই বালিশটা নিয়ে চলে গেলাম।বন্ধু রহিম কে বললাম টিফিন পিরিয়ড  শেষ হওয়ার দশমিনিট আগে যেন আমাকে জাগিয়ে দেয়।ক্লাসে সবাই মোটামুটি আমার ঘুম সম্পর্কে জানে।দেরি না করে দ্রুত লো ব্যাঞ্চে বসে হাই ব্যাঞ্চে বালিশের উপর মাথাটা রাখতেই আমি ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ কারো হাত দ্বারা আমার কোমরে চিমটি কাঁটার আঘাতে ঘুম ভাঙে।চোখ খুলতেই দেখি আমার মাথার উপরে এবং চারপাশে স্কুল ব্যাগের স্তূপ! শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে মাথাটা উপরে তুলতেই চারপাশে ব্যাগ গুলো ছিটকে পড়ে।সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে উঠে।রফিক স্যারের আমার দিকে তাকানোর ভঙ্গি টা দেখে বুঝতে পারলাম বিজ্ঞান ক্লাস শেষের দিকে।মনে মনে বন্ধু রহিম কে ১০১ বার গালিগালাজ করলাম।স্যার আমার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ভয়ে চুপসে গেলাম।


ভাবলাম মাইর আজকে একটা ও মাটিতে পড়বেনা।নিজ দায়িত্বে পিঠটা স্যারের দিকে এগিয়ে দিলাম।স্যার আমার পিঠে চড় মেরে বলল,"সাবাস! !আগামী বছর থেকে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী সভায় তোমার ঘুমের জন্যও একটা পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকবে।ক্লাসের সবাই আবার হো হো করে হেসে উঠলো, সাথে স্যারও। ভাগ্যিস সামিয়া আজ ক্লাসে উপস্থিত নেই।থাকলে হয়তো ,একুশ দিনের গড়ে তোলা সম্পর্ক টাকে নিমিষে সাতপাঁচ না ভেবেই ভেঙে দিতো।পরের দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে স্কুল বন্ধ।সামিয়া কে নিয়ে বৈশাখী মেলায় ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান আছে।
সকাল দশটা বেজে পনেরো মিনিটে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করলাম।এগারো টায় সামিয়ার পছন্দের লাল টিশার্ট পড়ে রওনা দিলাম।সিএনজি তে উঠে সামিয়া কে ফোন করে বললাম বের হতে।
গাড়ির ভিতর কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম মনে নেই।ঘুম ভাঙতেই হাত ঘড়িটার দিকে তাকাতে দেখি বিকাল চারটা বেজে পঁচিশ মিনিট।ড্রাইভার তার আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছে।ইচ্ছে করছে নিজের কপাল নিজে ফাটাই। পকেট থেকে দ্রুত ফোন টা বের করে সামিয়া কে কল দিব ঠিক তখনি বন্ধু রহিমের নাম্বার থেকে কল আসে।রিসিভ করে কিছু বলার আগেই রহিম বললো, "দোস্ত!আমি জানি তুই এরকম একটা কাণ্ড আজ ঠিকই করবি।চিন্তা করিসনা সামিয়া কে নিয়ে আমি মেলায় অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে নিজ দায়িত্বে বাড়ি পৌছে দিছি।"মেজাজ তখন একশো।কিছু বলতে চাচ্ছি রহিম আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো,"আরে দোস্ত কোন ধন্যবাদ দেওয়া লাগবনা তোর।বন্ধু হয়ে যদি এটুকু করতে না পারি তাহলে কেমন বন্ধু!"রাগে সিএনজি থেকে নেমে গাড়ি ভাড়া না দিয়ে চলে যাবো এমন সময় ড্রাইভার হাত ধরে টান দিয়ে বললো, "ভাড়া পাঁচশো টাকা বের করেন।"মানে কি পঞ্চাশ টাকার ভাড়া পাঁচশো টাকা দিব কেনো?
"আরে ভাই আপনাকে এক জায়গায় দশবার আনা নেওয়া করছি।"শালা এক জায়গা দশবার আনা নেওয়া করলি,আর আমারে একবারো ডাকতে পারলিনা।ড্রাইবার গরম করে বললো, "ভাই আমি আনা-নেওয়ার কাজ করি।ডাকাডাকির না।"আর কিছু বলার মুখ নেই আমার পাঁচশো টাকা দিয়ে ঘরে চলে আসলাম।
সকালে আব্বা টাকা দিয়ে দোকানে পাঠালো বাজার আনতে। মকবুল চাচার দোকানে দেখি মানুষের ভিড়।ভাবলাম একটা ব্যাঞ্চ আছে ঐ টাতে বসে একটু জিরোয়।চাচা ফ্রি হলে বাজার নিব।


একটু জিরানো যে কখন দুপুর দুইটা পার করে দিলো টেরও পেলামনা দ্রুত বাজার করে ঘরের দিকে রওনা দিলাম।আম্মা-আব্বা না জানি বাড়িতে কত চিন্তা করছে।আম্মা-আব্বার চিন্তার কথা ভেবে আমার উচ্চ রক্তচাপ আরো উচ্চ হয়ে যাচ্ছে।
ঘরের দরজায় পা দিবো এমন সময় আম্মা-আব্বার আওয়াজ শুনি।
আম্মা:-আরে তোমার ছেলেতো এখনো আসলোনা বাজার নিয়ে।
আব্বা:-চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নাই রাতুলের মা।পোলার ঘুম ভাঙলেই দেখবা ঘরে আইসা গেছে।
#সমাপ্ত         

#লেখিকা - JINNAT RIMA
আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন আরও গল্প পড়ার জন্য touch here for joining

No comments:

Post a Comment