AUTHOR

একটা কম বয়সী বাচাল, একরোখা, জেদী, লাজুক, বাংলা মিডিয়াম স্কুলের যেচে বাঁশ নেওয়া সাইন্সের ছাত্র।
আরো জানবেন ফেসবুক আছে তো
��

24/05/2018

সংসার যাঁতাকল

         - :     সংসার   যাঁতাকল    : -



সকাল সকাল চা খেয়ে কালীপদ দত্ত খবরের কাগজ টা নিয়ে বসেছেন। ওনার আবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার অভ্যাস, এমনকি বিজ্ঞাপন টাও ছাড়েন না। ওনার অর্ধাঙ্গিনীটি আবার খবরের কাগজে খুব উদাসীন। তা বলে এটা ভাবার কোন কারন নেই যে উনি দেশের বা দশের খবর রাখেন না। বিলক্ষণ রাখেন, ওনার বিশ্বস্ত খবর‌ওলা মালতীর থেকে। মালতী হল কালী বাবুর বাড়ীর ঠিকে কাজের লোক। বহু পুরোনো আর বিশ্বস্ত। হ্যাঁ তা প্রায় 20 বছর তো হবেই। কালীবাবুর বাড়ির কাছাকাছি ই থাকে সে ,তাই কাজ ছাড়াও দিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার আনাগোনা লেগেই আছে তার।
      "কিগো বাজার টা  বাড়িতে পৌছে দেবার জন্য কি লোক ঠিক করেছো এখনো দেখি খবরের কাগজ গিলে চলেছো ,আমার তো আর তোমার মত বসে আয়েস করা ভাগ্যে নেই ,দুনিয়ার কাজ করতে হয়।একনিশ্বাসে কথা গুলো বলে গেলেন ভারতী দেবী। রান্না টা শেষ করতে না পারলে মালতী এসে কি করবে শুনি? তার ও তো দশটা বাড়ি কাজ করে খেতে হয় নাকি। তোমার মত সুখী কে আছে এই সংসারে"।
     ঘেন্না ধরে গেল এই সংসারে, বলে কালীবাবু উঠলেন। খেলার পাতা টা এখন ও বাকী যাক গে ফিরে এসে পরা যাবে ।পাজামা পরাই ছিলেন উঠে ফতুয়া টা গলিয়ে নিলেন।
বসার ঘরে এসে হাঁক পারলেন বাজারের এর ব্যাগ আর টাকাটা কে দেবে শুনি ,আর কি আনতে হবে সেটাও তো কিছুই জানলাম না। সারাক্ষণ শুধু কাসড় এর মতো বেজেই চলেছ।
    ভুল করলে তার খেসারত তো দিতে ই হয়। রনমূর্তী ধারী ভারতী দেবী ঠাকুরঘর থেকে বেড়িয়ে  এসে, মাইক ছাড়াই সারা পারা শুনতে পায় এমন আওয়াজে যা বললেন তা হল.. " কি আমি কাসড় এর মত বাজি আর সান্নাল এর গিন্নী এক্কেরে কোকিল কন্ঠি নাকি "..।কালীবাবু এবার একটু নরম হয়ে মিষ্টি করে বললেন.."‌আহা আসতে বল শুনতে পাবে যে,ওনাদের আবার টানছ কেন "...,"ঘাট হয়েছে আমার এই কান ধরছি দাও দেখি ব্যাগ টা"....।" চোখের মাথা খেয়েছ নাকি খাবার টেবিলে রাখা আছে দেখতে পাওনা, রোজ ই তো তাই রাখি" বলেই ভারতী দেবী কালীবাবুকে থরহরি কম্প অবস্থান এ ফেলে ঠাকুর ঘরে প্রস্থান করলেন। 


   ভূল টা কালী বাবুর ই সত্যিই  তো গিন্নী রোজ বাজারের ব্যাগ আর তার ভেতরে টাকা আর লিস্ট ঢুকিয়ে খাবার এর টেবিলে ই রাখে। বেড়োনোর আগে কানে এল ঠাকুর ঘর থেকে ভেসে আসা বেসুরো ভক্তিগান। মনে মনে ভাবলেন ভগবানের ও যদি মৃত্যু যোগ থাকতো এতদিনে এই বেসুরো ভক্তির চোটে ওনার ও পঞ্চত্বপ্রাপ্তি হত ।
  কোন এক সরকারী আপিসে কেরানীর কাজ করতেন কালীবাবু , গত এক বছর হলো অবসর নিয়েছেন। এক ছেলে বিদেশে থাকে ।বিদেশী সংস্থায় চাকুরি করে। ব‌উ, মে নিয়ে সেও ভালই আছে। বছরে একবার দেশে ফেরে।  নয়তো সারা বছর এই বুড়ো বুড়ির এই ভাবে ই কাটে। কালীবাবুর সময় থেকে তার পরিবার টা বেশ ছোট। তিনি নিজে ও একটি সন্তান। দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে তার মাতৃদেবী ও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। সৎমায়ের কাল্পনিক ভয়ানক রুপে ভীত হয়ে  তার পিতৃদেব ও নিজেকে সমস্ত জাগতিক সুখ থেকে বঞ্চিত করেছেন। কালীবাবু তার ঠাকুরমার কাছে ই মানুষ হয়েছেন। তিনি যদিও বহুবছর অবধি চেষ্টা চালিয়ে গেছেন দ্বিতীয় বিবাহের প্রয়োজনীয়তা বোঝাবার কিন্তু কালীবাবুর পিতৃদেব সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
    কালীবাবুর বাড়ির পরে ই অনিমেষ সান্যাল এর বাড়ি। বেশ বড়ো আর সাজানো গোছানো বাড়ি, দেখলে মনে ই হয় সুখ আর বৈভবের প্রাচুর্যে ভরপুর। বছর তিনেক মতো হবে ওনারা এখানে এসেছেন। বয়সে কালীবাবুর থেকে খানিকটা ছোট ই হবে। চেহারা  ও বেশ সুন্দর। পোষাক আষাকে আভিজাত্যের ঝলক। মনে মনে হিংসে যে হয়না তা নয় তবে হিংসেটা যদি টাকা পয়সা দিয়ে শুধু হতো সমস্যা ছিলো না। হিংসেটা যে অন্য জায়গায় বেশী। সেটা বোধহয় খানিক প্রকাশ ও পায় ন‌ইলে তার ভয়ঙ্করী গিন্নী বোঝে কি করে?
    গিন্নীর চিন্তা মাথায় আসতেই কালীবাবু গতি যেন নিজে থেকে ই বেড়ে গেল।
      উফ্ফ যার জ্বালা সেই বোঝে......



                                                                
                        
  #সমাপ্ত
#লেখিকা  -. Soma Dutta Das
আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন আরও গল্প পড়ার জন্য touch here for joining
(Original owner plz contact us)
                                                          

No comments:

Post a Comment