AUTHOR

একটা কম বয়সী বাচাল, একরোখা, জেদী, লাজুক, বাংলা মিডিয়াম স্কুলের যেচে বাঁশ নেওয়া সাইন্সের ছাত্র।
আরো জানবেন ফেসবুক আছে তো
��

24/05/2018

এক অচেনাকে চেনার কথা

       -: এক অচেনাকে চেনার কথা :-




মেয়েটি :-এই যে মিস্টার ,শুনছেন....? এত রাতে আমার প্রোফাইলে ঘোরাঘুরি কিসের জন্য..?
ছেলেটা:- কী আশ্চর্য আমি কখন আপনার প্রোফাইলে ঘোরাঘুরি করলাম আজব তো...?
-- তাই নাকি...! তাহলে পোক মারলেন যে...?
-- সে আমি জানি কি তা হয়তো আঙ্গুলের ডগায় লেগে হয়ে গেছে...!!
-- ওহ তাই নাকি.. কারো প্রোফাইলে অযথা না ঘোরাঘুরি করলে আপনা, আপনি পোক হয়ে যায় জানা ছিল না...!!
-- আচ্ছা আপনাকে একটা কথা বলি ....?
-- হ্যাঁ বলেন....!
-- একটা পোকই তো মারছি এরজন্য এত রিয়্যাক্ট করার কী আছে...?
-- আচ্ছা ঠিক আছে...!
-- পাঁচ মিনিট আপনার সাথে কথা বলা যাবে..?
-- কেন আমি আন-নোন কারো সাথে কথা বলি না ভাল লাগে না...!!
-- আরে মাত্র পাঁচমিনিটই তো কথা দিচ্ছি আর বেশি সময় নিব না...!
-- আচ্ছা কী বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন আমি এখন ঘুমোতে যাবো...?
-- আচ্ছা আপনি কেন প্রোফাইলে নিজের পিক ইউজ করেন না...! জানতে পারি কী..!
-- সেটা আমার সম্পূর্ণ পারসোনাল ম্যাটার তা আপনাকে বলতে যাব কেন...?
-- তাহলে আপনি খুব সুন্দরী তাই না...! এরজন্য নিজের রুপটা কাউকে দেখান না...?
-- জি না.. ধরে নিন আমি এতটাই কালো যে আফ্রিকা, বা কেনিয়ার মানুষের চাইতে কালো ঠিক যেমন বনসাই বৃক্ষ আর মানুষ দেখে ভয় পাবে বলে কারো সামনে আসি না।নিজেকে আড়াল করে রেখেছি। নয়তো এতটাই রুপবতী যে ডানা কাটা পরীকেও হার মানাবে।
আমার রুপ দেখে ছেলেরা পাগল হয়ে যাবে তাই নিজেকে সবার আড়ালে রাখতে পছন্দ করি।
-- বাহ আপনি তো খুবই ইন্টারেস্টিং মানুষ...! ওয়েল ডান আই লাইক ইট...! সে যাই হোক আপনার চোখ দুটো কিন্তু টানা,টানা কাজল কালো চোখ বেশ মায়া,মায়া ভাব। চোখের নেশা বড় নেশা।আপনার চোখের প্রেমে পড়ে গিয়েছি।।
-- এই যে শুনুন এত রাতে আপনার সাথে ফালতু বকবকানি আর ভাল লাগছে না...! ভাল থাকবেন বাই...!
-- গুডনাইট অন্তত বলতে হয় কাউকে। এ কেমন মেয়ে।মিনিমাম ভদ্রতার লেশ টুকু নেই...! আজব মেয়ে !!
(আমি ঠিক বেহায়য়ার মতো মেয়েটিকে আবার সকাল বেলা মেসেজ করলাম..! সিন করল কিন্তু কোন রিপ্লাই দিল না..! (
-- নিজেকে কি মনে করেন বলুন তো...!
এতগুলো মেসেজ দিলাম একটারও রিপ্লাই দিলেন না যে..! একটা কথা বলার ছিল আপনার নামটা কিন্তু বেশ ভাল..! জান্নাতুল হিমি..! সো নাইস!
-- ধন্যবাদ কিন্তু আপনার মতো এত গাঁয়ে পড়া লোক আর দেখিনি কোনদিন...?
শোনেন মিস্টার কথা কম বললে ভাল হয়...!
-- এত মিস্টার, মিস্টার বলেন কেন...? আমার নাম তো শিয়াব এ নামে ডাকলে খুশি হব..!
-- আচ্ছা ঠিক আছে..! আপনি কি সবসময় বেশি কথা বলেন...?
-- মোটেও না..! আচ্ছা আপনার যদি মনে হয় আমি বেশি কথা বলি তাহলে আর ডিস্টার্ব করব না...!
-- সেটাই ভাল হবে আপনার জন্য....!
-- ওকে কথা দিচ্ছি আর নিজে থেকে কথা বলব না। এই বলে ফেবু থেকে বেরিয়ে পড়লাম...!
-- একদিন পর ফেবুতে ঢুকেই দেখি হিমির
মেসেজ। আপনি কি মাইন্ড করলেন...! সরি
আপনাকে বোধহয় অনেক কথা শুনিয়ে দিয়েছি।।
-- ইটস ওকে আমি কিছু মনে করিনি...!
(এভাবে রোজ হিমির সাথে আমার কথা হত। আস্তে,আস্তে আমাদের রিলেশন টা বন্ধুত্বে পরিণত হল। নিজে থেকে কোনদিন বলিনি ওকে যে তোমার একটা পিক দিবে কি...? তাই সেও আমাকে তার কোন পিক দেইনি।তবে আমি ওকে রোজ পিক দিতাম। )
-- একদিন আমি হিমিকে বললাম আমরা তো একই শহরে থাকি চল না একদিন দেখা করি...!
-- তা হয় না আমি একা কোথায় ঘুরতে যাই না...!
-- তাহলে একা আসার দরকার নেই।তোমার কোন ফ্রেন্ড কে নিয়ে এসো...!অনেক জোরাজুরির পর হিমি রাজি হল।আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমাকে তো আমি কোনদিন দেখিনি তাহলে চিনবো কি করে...! হিমি আমাকে বলেছিল তার কোন দরকার হবে না।আমি তো তোমাকে চিনি আমি না হয় তোমাকে খুঁজে নিব।
(এই দু বছরে হিমিকে কোনদিন মুখ ফোটে
বলিনি যে আমি ওকে ভালোবাসি। শুধু একটা ভয়ে যদি আমাকে ও ফিরিয়ে দেয়।যদিও আমাদের সম্পর্ক টা হল বন্ধুত্বের। কিন্তু আমি নিজেও জানি না।কখন যে নিজের অজান্তে ওকে ভালোবেসে ফেলেছি আমি নিজেও জানি না। আজ বার, বার মনে পড়ছে ওর
সাথে আমার প্রথম পরিচয় আর প্রথম কথা ঝগড়া দিয়ে। মজার ব্যাপার হল সেই ঝগড়াটে মেয়ে আজ আমার হৃদয়ের একটা বিশাল জায়গা জোড়ে আছে...! )



      পুরোদিন নিজের জন্য শপিং আর হিমির জন্য একটা নীল শাড়ি আনলাম। অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।কখন ওর সাথে দেখা করব আর নিজের
মনের না বলা সেই কথা বলব সেটা ভাবছি।।
বাসায় ফিরে আমি রীতিমত আশ্চর্য হলাম।একগাদা মেহমান। ছোট বোনটিকে জিজ্ঞেস করলাম আজ হঠাৎ বড়,আপা মেঝ আপা দুলাভাইসহ এত মেহমান কেন...?
ভাইয়া গুড নিউজ আছে কালকে তোর বিয়ের পাকা
কথা দিতে সবাই যাবে।তোর জন্য বউ দেখতে
যাব সবাই..! মাঝখান থেকে দুলাভাইরা বলে উঠলো
শুধু দেখতে নয়।কালই পাকা কথাদিয়ে আসবো।
আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।।
বিয়ে করব আমি কিন্তু কেউ আমার মতামত নেবার
প্রয়োজন মনে করেনি।তাছাড়া আমি হিমিকে
ভালোবাসি আমার এতদিনের অপেক্ষার অবসান
ঘটবে আমি ওর সাথে দেখা করব কাল ওকে কথা
দিয়েছি। না আমি এই বিয়ে করতে পারব না। মাকে
অনেক বুঝালাম কিন্তু কোন কাজে আসলো না।
এদিকে হিমির সাথে যোগাযোগ করার অনেক
চেষ্টা করেছি কিন্তু তাঁর এফবি আইডি বন্ধ।
 
পরদিন মেয়ে দেখতে গেলাম।হিমির সাথে আর
কোন যোগাযোগ হয়নি।নিজেকে খুব অপরাধী
মনে হচ্ছে।আমার বন্ধুরা ঠিকই আমাকে অপদার্থ
বলে নয়তো একটা মেয়ের সাথে এতদিন
থেকে পরিচয় ওর মোবাইল নাম্বারটাও নিতে পারিনি।
আর অবশ্য কেউ নিজে থেকে না দিলে আমি পাই
কি করে...!
মাথায় বড় ঘোমটা দিয়ে মেয়েটা কে নিয়ে আসা
হল। মুড নেই তাকাবার তারপরও আড় চোখে
তাকিয়ে আছি।মেয়েটির চোখ দুটো খুব
চেনা,চেনা মনে হচ্ছে।দিঘল কালো চোখ,
গাঁয়ের রং সামলা তবে আমার থেকে পরিষ্কার নয়
এতটা।খুব বেশি একটা হাইট নেই।দেখে মনে
হবে রোগা।ঠিকমতো খাওয়া, ধাওয়া করে না।
সবাই মেয়েটাকে প্রশ্ন করছে, মেয়েটিও
চেষ্টা করছে ঠিকঠাক উত্তর দেয়ার। অবশেষ
বিয়ের ডেটও ফিক্সড হয়ে গেল। সবাই বলাবলি
করছে কিরে শিয়াব তুই কি হিমির সাথে আলাদাভাবে
কথাবলবি। প্রথমে রাজি হলাম না। সবাই যখন আমার
মতামত না নিয়ে বিয়ে ঠিক করে ফেলছে তাহলে
আমার আর কিছু বলার নেই।কিন্তু নামটা শোনার পর
আমার বুকটা যেন কেমন করে উঠলো। এই কি
সেই হিমি যাকে আমি ভালোবাসি। হতে পারে
নয়তো এতটা মিল কি করে হয়।
তারপর আমি আর হিমি একান্ত কথা বললাম। কিন্তু
মেয়েটা এতটাই লাজুক যে ওর মুখ দিয়ে কথাই
বের হচ্ছে না। কিভাবে শুরু করব কথা বুঝতে পারছি
না।শেষপর্যন্ত নিরুপায় হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে
পড়লাম।
বিয়ে হয়ে গেল ঠিক একসপ্তাহ পর।হিমির সাথে
আর কোন যোগাযোগ হয়নি।বিয়ের রাতেসবাই বাসর ঘরে
ঢুকিয়ে দিল।
-- এই যে মিস্টার এতক্ষণে আপনার আসার সময় হল। নতুন বউকে এতক্ষণ হুদাই অপেক্ষা করিয়ে
রাখলেন। আজব  মানুষ!!
আমি তো ওর কথা শুনে অবাক। এভাবে হিমিও আমার
সাথে কথা বলতো।আর কয়দিন আগেও যে
মেয়ের মুখে কোন কথা বের হয়নি।আজ যেন
কথার খই ফোটছে।
-- এই তুমি আসলে কে বলতো...?
-- কী আশ্চর্য আমি তো হিমি..!
-- সেটা নয়..! তুমি কি সেই হিমি যার সাথে আমার
ফেসবুকে রোজ কথা হত...!
-- বাহ কী দারুণ. .!আপনি অন্য মেয়ের সাথে
রোজ কথা বলতেন আর বিয়ে করলেন কি না অন্য
একটা মেয়েকে..! অনেক খারাপ একটা লোক আপনি।
-- শুধু কথা নয়।আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু
বলার সুযোগ পায়নি।
-- তাহলে মেয়েটা কি আপনাকে ধোকা দিয়ে
চলে গেছে. ..?
-- নাহ হঠাৎ করে উদাও হয়ে গেছে...!
-- শোনেন মিস্টার শিয়াব আমিও একটা ছেলেকে
ভালোবাসি কিন্তু আমি আপনার মত এতটা অপদার্থ নয়।
আমি যাকে ভালোবাসি তাকে সোজা বিয়ে করেছি।
-- আমি হিমির কথা শুনে বিস্মৃত হলাম।তুমি আমার সাথে
কেন এমন করলে হিমি।আমাকে কেন এভাবে তুমি
কষ্ট দিলে...?
-- কষ্ট কি তুমি একা পেয়েছো।আমি পাইনি। একটা
মেয়েকে ভালবাসো তাকে বলতে পারনি
কোনদিন। অথচ বিয়ে করতে চলে আসলে অন্য
একটা মেয়েকে..!ভাগ্যিস আমি তোমার ছবি
দেখে নিয়েছিলাম। নয়তো আমি এ বিয়ে করতাম
না।
-- আর তুমিও কম কিসে সব জেনেও আমাকে কিছু
বলনি।
শোননা সরি ক্ষমা করে দাও না।আর এমনটি হবে না।
-- হইছে আর ন্যাকা সাজতে হবে।
--একটা কথা জানার ছিল।তুমি যে আমাকে এতটা
ভালোবাস আগে কেন বলনি?
-- চান্স পেলাম কোথায়. .!আর সেইজন্য তো
যাকে ভালোবাসি সোজা তাকে বিয়ে করে নিলাম।
-- আজ আমি অনেক খুশি।যাকে ভালোবাসি সেই
অচেনা মেয়েটি আজ আমার জীবন সঙ্গী. ..!
আমি জীবনে কল্পনা করিনি।তোমাকে আমি
জীবন সঙ্গী হিসেবে পাব.......!








@সমাপ্ত
লেখক:- Taslima Amrin.
আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন এরকম আরও অসাধারণ গল্প পড়ার জন্য।
Touch here for join

 (Original owner plz contact us..)

No comments:

Post a Comment