AUTHOR

একটা কম বয়সী বাচাল, একরোখা, জেদী, লাজুক, বাংলা মিডিয়াম স্কুলের যেচে বাঁশ নেওয়া সাইন্সের ছাত্র।
আরো জানবেন ফেসবুক আছে তো
��

18/07/2018

ভদ্র সমাজ

                    ভদ্র সমাজ
আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করি , যেখানে তুমি  (মানে একটা মেয়েকে বলছি আমি ) যদি কোনো ছেলের সাথে প্রেম করো এবং ঐ ছেলেটার বাড়ির লোক , তার বাবা - মা জেনে যায় তাহলে তোমাদের অবস্থা খারাপ করে দেবে (ব্যাতিক্রম ও আছেন কিছু ..).....
অথচ কদিন পরেই দেখবে ওই ছেলেটির বাবাই তোমার বয়সী কোনো মেয়েকে খোলাখুলি লাগাতে চেষ্টা করছে ....
একই ঘটনা ঘটে মেয়েদের বাবার ক্ষেত্রেও !!তবে সেই সংখ্যাটা একটু কম , কারণ তাদের মেয়ে আছে (এক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম প্রযোজ্য)...
এখানে একটা ছেলে ভালোবেসে একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরলে (অবশ্যই দুজনের সহযোগিতা থাকলে তবেই!!) একটু বয়স্ক লোকগুলো যাতা মন্তব্য করতে ছাড়ে না,, এমন কি মারধর ও করে....
কিন্তু একটু একটা মেয়ে ধর্ষিত হলে ফিরেও তাকায় না....
আমাদের সমাজে ' ধর্ষণের জড়িয়ে ধরা' টা , অনেক বেশি সম্মানের ' সহযোগিতার জড়িয়ে ধরা ' র থেকে .....
আরে বোকাচন্দ্র গুলো , এবার তো একটু বোঝ যে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল....
সবই কি নিজেদের সাথে হয়ে গেলে , তখন বুঝবি !!!
অনেকে এটা পড়েই ভাববেন , ইসসস এমন ভাষা!!! কি নির্লজ্জ মেয়েটা ( যে লেখাটা লিখেছে)
বি: দ্র: আজ্ঞে তা যদি এই চুতিয়াপনা গুলো মানিনা বলে আমায় নির্লজ্জ বলেন ,, তাহলে একবার নয় একশো বার আমি মেনে নিতে রাজি যে আমি  নির্লজ্জ....
আর যাই হোক আমি  আপনাদের এমন সুন্দর মুখোশ পরা সমাজে বাস করতে বাধ্য হলেও এটা মেনে তো  নিই না...
#ভদ্র সমাজের মুখোশ পড়া লোকজন...
(খারাপ ভাষার জন্য ক্ষমা করবেন.. আর কাউকে ব্যাক্তিগত ভাবে আঘাত করতে চাইনি ,, এটা লেখাটা শুধু মাত্র আমার ভাব প্রকাশ..)
লেখিকা - আরাধ্যা

11/06/2018

সাইকোপ‍্যাথিক ভালোবাসা


     প্রতিদিনের মতো ছেলেটা দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে সে দোকানটায় এসে...
প্রত্যেকদিন বিকেলবেলায় ছাদের উপর থেকে বর্ষা নিয়মিত ছেলেটিকে ফলো করে...
ছেলেটিকে দেখতে কেমন যেন মায়াময়...কী যেন আছে ছেলেটির চেহেরায়...কেমন যেন এক ভালোলাগা কাজ করে তার চেহেরার দিকে তাকিয়ে থাকলে..
প্রতিদিনই ভাবে বর্ষা আজ গিয়ে ছেলেটির সাথে কথা বলবোই...কিন্তু কেন যেন কথা বলা হয়ে উঠে না তার...যদি ছেলেটি কিছু মনে করে বা ছেলেটি যদি কথা না বলে তখন তো বর্ষার অনেক অপমানিত বোধ হবে...
আচ্ছা ছেলেটিকে ছাদে ডেকে আনলে কেমন হয়..?
এসে আমার সাথে গল্প করলে খুব ভালো হতো..
হঠাৎ বর্ষার চিন্তায় ছেদ পড়লো...
ছেলেটি চলে যাচ্ছে..বর্ষা মোবাইলে দেখলো সেই একই সময়ে উঠে চলে যাচ্ছে ছেলেটা...প্রতিদিনের মত আজো ২০ মিনিট সে দোকানে বসেছিল...
সে কি টিউশনি করে...?
কিন্তু দেখতে কেমন যেন পাগলাটে টাইপের...?
টিউশনি না করলে সে রোজ একই সময়ে উঠে চলে যায় কেন...?
নাকি তার গার্লফ্রেন্ড আছে...?সে কি তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে...?
উফফ...মাথায় আর আসছে না..আর ভাবতেও পারছি না তাকে নিয়ে...তাকে নিয়ে আমার এত ভাবার কি আছে...?
কাল এলেই তার সাথে কথা বলে জেনে নেব তার পরিচয় ঠিকুজিকোষ্ঠী...
পরেরদিনও ঠিক একই সময়ে ছেলেটি এলো যথারীতি.. ছেলেটি সিগারেট ধরানোর আগেই বর্ষা ডাক দিল ছাদ থেকে...
--- এই যে শুনছেন...?আমি আসছি..(বর্ষা)
ছেলেটি কি না বুঝে হতভম্বের মত দাঁড়িয়ে রইল...
বর্ষা ছাদ থেকে নেমে ছেলেটির কাছে এলো...
--- হাই..আমি বর্ষা..আপনি..?
--- আমি অনিরুদ্ধ...সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়লো একরাশ...
ছেলেটি কেমন যেন মনে মনে ভাবতে লাগলো বর্ষা..নীল নীল আয়ত চোখ...ঘন জোড়া ভুরু তার..কেমন যেন অন্তর্ধানি চাহনী ছেলেটির..দেখতে কেমন যেন শিরশিরানি অনুভূত হয় মনের মধ্যে..এটা কি ভয়ের না কৌতুহলের শিহরণ তা বুঝতে পারে না বর্ষা...
--- আপনি কিসে পড়ছেন...?থাকেন কোথায়..?(বর্ষা)
--- পড়ালেখা শেষ..আপাতত একটা ফার্মে আছি আর আমি (আংগুল দেখিয়ে) ওই দিকেই থাকি...(অনিরুদ্ধ)
--- নামতো আগেই বললাম,,আমি বিবিএ তে পড়ছি শেষ বর্ষ..এই যে বাড়িটা দেখছেন এটা আমাদেরই..(বর্ষা)
--- হুম...(অনিরুদ্ধ)
--- আজ যাই...পরে কোন একসময় আবার কথা হবে..(অনিরুদ্ধ)
--- ওকে..ভালো থাকবেন...(বর্ষা)
এভাবেই শুরু হয় তাদের পরিচয়..প্রায় প্রতিদিনই তাদের মাঝে কথা হত..কিন্তু মেয়েটি একটু বেশি বকবক করতো..ছেলেটি চুপচাপই থাকতো..
মোবাইল নাম্বার বিনিময় হয় তাদের মাঝে..রাতে বা যেকোন সময় মেয়েটি কল করে ছেলেটির খোঁজ খবর নিত..এভাবে মেয়েটি আস্তে আস্তে প্রেমে পড়ে যায় ছেলেটির..মেয়েটির বাসায় ছেলেটির ব্যাপারে সবকিছুই শেয়ার করে...বর্ষার বাসার সবাই ছেলেটিকে দেখতে চায়..
কিন্তু অনিরুদ্ধ কে বললে সে কেমন যেন একটা গা ছাড়া ভাব দেখাতো..অনিরুদ্ধও বর্ষাকে ভালোবাসতো..কিন্তু সে বর্ষার মত মুখ ফুটে কিছু বলতো না..কারণ অনিরুদ্ধের অতীত রেকর্ড এতো ভালো কিছু ছিল না..
বর্ষাও কোনদিন অনিরুদ্ধের অতীতের ব্যাপারে জানতে চায় নি..
একদিন জোর করেই অনিরুদ্ধকে তার বাসায় নিয়ে গেল বর্ষা..




অনিরুদ্ধকে দেখে বর্ষার বাসার সবাই মোটামুটি রাজী হয়ে গেল একপ্রকার..অনিরুদ্ধকে দেখে পছন্দ হলো সবার...
অনিরুদ্ধের ফ্যামিলির বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে তার মা ছাড়া আর কেউ নেই..
মাকে নিয়ে আসতে বলা হল বর্ষাদের বাড়িতে..
অনিরুদ্ধ আসবে বলে সেদিনের মত বর্ষার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল..
এর পর দুদিন অনিরুদ্ধ আর সেই দোকানটাতে এলো না..বর্ষা কেমন যেন ছটফট করেছিল এই দুদিন..
এর পরের দিন অনিরুদ্ধ এলো...
--- কোথায় ছিলে এই দুদিন...?(বর্ষা)
--- একটু কাজ ছিল.. তাই আসতে পারিনি..(অনিরুদ্ধ)
--- আসবে না যে কল করে বলতে পারতে.. তুমি তো জানোই আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি..(বর্ষা)
--- আমিও তো বাসি..কেন তুমি তা বুঝতে পারো না..?(অনিরুদ্ধ)
--- আচ্ছা বাদ দাও..মাকে নিয়ে কবে আসছো আমাদের বাসায়..?বিয়ে করছো কবে...?(বর্ষা)
--- এই তো কিছুদিন পরই আসব..হাতের ঝামেলা গুলো শেষ করে নেই..(অনিরুদ্ধ)
--- জানো,,তোমার সাথে কথা না বলে আমি একটুও থাকতে পারি না..মনে হয় তুমি আমায় জাদু করেছো..(বর্ষা)
--- (একটু হেসে) আচ্ছা তাই নাকি..?শোনো আমি আসছি.. কাজ আছে একটু...(অনিরুদ্ধ)
--- যাও সাবধানে..রাতে কথা হবে..বাই..(বর্ষা)
--- বাই..(অনিরুদ্ধ)
সেদিনের পর থেকে বর্ষা আর অনিরুদ্ধের মাঝে আর কোনদিন কথা হয় নি...
বর্ষা কল করে দেখে নাম্বার বন্ধ...
ছাদ থেকে প্রতি বিকেল বেলায় সে দোকানটার উপরে নজর রাখে..কিন্তু ফলাফল শূণ্য...অনিরুদ্ধ আসে না..
একদিন দুদিন তিনদিন এভাবে প্রায় ৬ দিন কেটে গিয়েছে...নাম্বারও বন্ধ এবং অনিরুদ্ধ দোকানেও আর আসে না...বর্ষা প্রায় পাগলের মত হয়ে যেতে থাকে..
কিছুই ঠিকমত যাচ্ছে না বর্ষার..
একদিন নিচে নেমে সেই দোকানটার সামনে এসে দাঁড়ায়..দোকানিকে জিজ্ঞেস করে ছেলেটি এই কয়েকদিনে কখনো এসেছিল কিনা..দোকানি তাকে একটা চিঠি হাতে ধরিয়ে দেয়..বর্ষা চিঠিটি হাতে নিয়ে বাসার ছাদে এসে পড়তে শুরু করে...
বর্ষা,,
জানি অবাক হচ্ছো তবুও আমার এছাড়া আর কোন উপায় ছিল না তোমার সাথে যোগাযোগ করার..তুমি আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না আর আমিও তোমায় কোনদিন বলতে পারি নি...আসলে তোমার ভালোর জন্যই আমি তোমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছি...



আমার জন্য জীবনে ভালোবাসা আসে নি..বা হয়তো ভালোবাসা আমার জন্য অনেকটা পাপ স্বরূপ..যেদিন তোমায় দেখেছিলাম আমি সেদিনই বুঝেছিলাম তুমি আমায় পছন্দ করো..আমিও করেছিলাম..কিন্তু আমাদের এই মিলন কখনোই হবার নয়..আমি যা তোমায় সামনে বলতে পারি নি তা এখানে লিখে দিলাম আমার সম্পর্কে...
আমি একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষ..আমার এর আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল..কিন্তু আমি তাকে নিজ হাতে খুন করেছি..বহুদিন আমার চিকিৎসা চলেছিল..কিন্তু আমি জানতাম আমার এই রোগ কখনো ভালো হবার নয়..ডাক্তার বলেছিল যাকে খুব ভালোবাসবো তাকে হারানোর ভয় থেকেই আমার এই খুনী স্বভাবের জন্ম দিয়েছিল..হয়তো আমি তোমায় আস্তে আস্তে ভালোবেসে ফেলি..আর আমি এটাও বুঝতে পারি যে তোমায়ও কোন একদিন আমি খুন করে ফেলতাম হারিয়ে ফেলার ভয়ে..তাই তোমার সাথে আমার বিয়ে কখনোই সম্ভব নয়..তাই আমি নিজেকেই আড়াল করে নিলাম তোমার কাছ থেকে...তোমার বেঁচে থাকার জন্যই আমার ভালোবাসাকে নিজ হাতে হত্যা করলাম...
জানি না কথাগুলো কিভাবে নিয়েছো তুমি কিন্তু শুধু একটা কথাই বলব,,আমায় ভুলে যাও..আর সবকিছু কারো সাথে নতুন করেই শুরু করো..ভালো থেকো নিজের যত্ন নিও...
ইতি---
অনিরুদ্ধ

চিঠিটি পড়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো বর্ষা...আর বিধাতার কাছে জবাব চাইতে লাগলো,,
ভালোবাসা এমন কেন...?
ভালোবেসে কেন কষ্ট পেতে হয়...?
-------------সমাপ্ত---------------



Author:- Tanvir Khan
আমাদের Facebook গ্রুপে জয়েন করুন এরকম আরও অসাধারণ গল্প পড়া ও লেখা পাঠানোর জন্য।
Touch here for join

06/06/2018

(অ)প্রিয় প্রাক্তন

(অ)প্রিয় প্রাক্তন..,


   নাঃ,এখন আর তুমি তেমনটা প্রিয় নেই আমার কাছে..বরং একরাশ বিরক্তি ভর করে মনে,তোমার নাম মনে এলেই।তবুও লিখছি চিঠিটা..
প্রথমে না হয় একটু শুরুর দিনগুলোর কথাই মনে করি..চিঠিটা তাতে অল্প লম্বা হয়ে যাবে..পড়তে গিয়ে তুমি বিরক্ত হবে ..ধৈর্য তোমার বরাবরই কম..তাই তো মাত্র একবছরেই আমি বাতিল হয়ে গেছিলাম তোমার কাছে..
এই মনে আছে..আমাদের প্রথম দেখার দিনটা...?জানিই ভুলে গেছো।আমিই বরং মনে করিয়ে দিই..কলেজের তৃতীয় দিন ছিল সেটা।হেঁটে আসতে গিয়ে একটা বড় ইঁটের টুকরোতে হোঁচট খেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলে তুমি আমার উপর।আশ্চর্য ব্যাপার জানো,রোগা পাতলা আমি কিন্তু দিব্যি সামলে নিয়েছিলাম তোমায়..পড়ে যেতে দিইনি..অথচ কিছুদিন প্রেমপ্রেম খেলা খেলে তুমি কেমন অবলীলায় আমায় ফেলে রেখে চলে গেলে..!!
তোমায় প্রথম থেকেই  বেশ লাগতো আমার..না না সুন্দর তুমি ছিলেনা বরং একটু ছাপোষাইই,তবুও তোমার ওই বুদ্ধিদীপ্ত দুটো ঝকঝকে চোখ আর ওই বয়সেই গম্ভীর গলার স্বর বড্ড  টানত আমায় তোমার দিকে।জানতো তুমি তখন প্রায়ই একটা আকাশী শার্ট পড়ে কলেজে আসতে..তোমার দেখাদেখি তখন আকাশী হয়ে উঠেছিল আমার অনুরাগের রঙ..কলেজ যাবার আগে,আমার একমাত্র আকাশী চুড়িদারের নরম সাদা ওড়নাটা গায়ে ফেলে দুই ভ্রু'র মাঝে যখন কালো টিপটা বসাতাম..বিশ্বাস কর তখন আমার মনে যে অচেনা আউলবাউল ঢেউটা উঠত.. ওই সতের বছরের জীবনে ওটাই ছিল আমার শ্রেষ্ঠ অনুভূতি।
তোমার একটা সিলভার রঙের বাইক ছিল. রোজ ইচ্ছে করেই ওটার পাশটিতে আমার সাইলেকটা রাখতাম..ভাবতাম,আমি তোমার পাশে না থাকতে পারি..সাইকেলটাতো থাকলো..মাঝেমধ্যে তোমার একটু পরশের আশায় তোমার বাইকের হ্যান্ডেলটা ছুঁয়ে আসতাম..
তারপর না জানি কি জাদু করলেন উপরে বসা অদৃশ্য জাদুকর, হঠাৎই একদিন তুমি পিছু ডাকলে আমায়..ঠিক লাইব্রেরির সামনেটায়..চমকে,বিস্ময়ে,উত্তেজনায় আর ভয়ে থতমত খাওয়া আমার হাত থেকে বইগুলো সব মাটিতে পড়ে গেছিলো.  দেখে তুমি ঠোঁট টিপে হেসেছিলে..আর আমি..?...আমি তো তখন পৃথিবীর সবথেকে সুখী মেয়ে..!
কলেজে আচমকা তোমার সাথে চোখাচোখির মুহূর্ত, প্রথম বারের জন্য আমার হাত তোমার মুঠোয়,শেষ বিকেলের রাঙা আলোয় তোমার দেখান একরাশ মিথ্যে স্বপ্নের আবেশে অবশ আমার মাথা তোমার বাড়িয়ে দেওয়া কাঁধে.. অঝোর বৃষ্টি ঝরা দিনে নিঝুম ফাঁকা ক্লাসরুমে প্রথম বারের মত তোমার বুকে আমার মিশে যাওয়া..বড্ড ভালো ছিল জানো আমার জীবনেই ওই গোলাপি সময়টা..একদম বুঝিনি,গোলাপি রংটা যে খুব নরম..অল্পেই ফিকে হয়ে যায়...
এই..কেন গো তুমি আমার নরম মনটা নিয়ে খেললে..?মন কি তোমার প্রিয় খেলনা..?তবে তুমি কিন্তু দারুণ এক রাঁধুনি জান..আবেগগুলো হল তোমার রান্নার উপকরণ। আমার উষ্ণ ভালোবাসার ধোঁয়া ওঠা চা'য়ে ঠিক কতটা মেকি দরদের চিনি মেশাতে হবে ..আমার আকুলতার সাথে ঠিক কতটা সোহাগের ফোড়ন ছড়ালে সম্ভাষটা উপাদেয় হয়..যথাযথ জানতে তুমি।
তুমি প্রায়ই সাতকাহন করে শোনাতে তোমাদের বৈভবের কথা..বড় বাড়ি, চারচাকা গাড়ির কথা..তোমার উচ্চপদস্থ রেলকর্মী বাবার কথা..আমায়ও প্রায় জিজ্ঞেস করতে আমার বাপির জীবিকা নিয়ে..অবাক হতাম আমি..বলতাম ওই ছোটোখাটো একটা ব্যবসা আছে..
এইপর আসে আমার সেই আঠারো বছরের জীবনের সবথেকে অনভিপ্রেত দিনটি।তখন আমরা সেকেন্ড ইয়ার।কিছুদিন ধরেই তুমি আমায়, ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে অল্প এড়িয়ে যাচ্ছিলে..ওই দিন স্পষ্ট করেছিলে কারণটা।আমার চোখের সামনে তুলিকার হাত জড়িয়ে ধরে আমার দিকে আঙুল তুলে বলেছলে..-"ইউ আর নট মাই টাইপ..!!"..আমার অবাক ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিটা পলকেই ঝাপসা হয়ে গেছিলো..অনেক চেষ্টা করেও তোমার মুখটা কিছুতেই দেখতে পাচ্ছিলাম না...বেইমান চোখ দুটো যে তখন নুনের সাগর..!!!
কানে আসছিল তোমার শ্লেষ মেশানো স্বর..বলে চলেছিলে তুমি..-"আমাদের একটা ফ্যামিলি স্টেটাস আছে..কি পরিচয় দেবো তোমার ..?এক মুদিখানা দোকানির মেয়ে.?.."




যারপরনাই অবাক হয়েছিলাম..কারো ভালোবাসার পরিমাপের একক তার বাবার ব্যবসার আকার হতেপারে..তা যে আমার অজানা..কোনোমতে চোখ মুছে তাকিয়েছিলাম তোমাদের দিকে..প্রকট ভাবে চোখে পড়েছিল বিদ্রূপ আর শ্লেষ উপচে পড়া তুলিকার দুটো বাদামী চোখ.. বুঝেছিলাম হয় তুমি কোনোদিনই আমার ছিলে না,নয়তো বহু আগেই তুমি তুলিকার হয়ে গেছো.।.পাগলপারা ভালোবেসে আমার প্রাপ্তির ঘরে জুটেছিল কেবল একটা শূন্য আর বেশ কিছুটা অপমান।
আজ প্রায় সাত বছর পর আমার বাবার অফিসে তোমায় একাউটেন্ট হিসেবে চাকরি করতে দেখে বেশ অবাকই হয়েছিলাম..তার থেকেও বেশি অবাক তুমি হয়েছিলে এটা বোঝার পর যে বিখ্যাত 'রিয়া ব্রান্ড ঘি'-এর মালিকের একমাত্র মেয়ে আমি..।জানতো, লোক দেখানো বিলাসিতা দিয়ে কক্ষনো কারো বৈভব, প্রাচুর্যের হদিশ পাওয়া যায় না।আমি সেইসময় তুলিকার মত স্কুটি নিয়ে কলেজ যেতাম না ঠিকই..কিন্তু সময় আমাদের গোটা মফস্বলে একমাত্র বি.এম.ডাব্লিউটা কিন্তু আমাদের বাড়ির গ্যারেজেই পার্ক করা থাকতো।আমায় ছেড়ে চলে যাবার দিন তুমি যে স্টেটাসের কথা বলেছিলে..সেদিন ইচ্ছে করলে আমি বলতে পারতাম যে তোমার আর তুলিকা দুইজনের বাবা কেই আমার বাবা দুই পুরুষ বসিয়ে খাওয়ানোর ক্ষমতা রাখেন..!




ভাগ্যিস বলিনি..বললে তুমি তুলিকাকে ছেড়ে আমার ঘাড়েই ঝুলতে..আমায় সারা জীবন টেনে চলতে হত এক প্রেমিকরূপী ব্যবসায়ী কে..তবে জানতো সেই বিখ্যাত লাইনটা..
-"জীবন খাতার প্রতি পাতায় যতই লেখ হিসাবনিকাশ.. কিছুই রবে না.."
জানি তোমার মত ব্যবসায়ী মানুষরা কখনো ভালো থাকে না..তাই তোমায় ভালো থাকার উইশ না করেই চিঠিটা শেষ করলাম...
                                                  ইতি,                                          কেউ না..।।।।



(সমাপ্ত)




Author:- অনন্যা_দেবরায় |
আমাদের Facebook গ্রুপে জয়েন করুন এরকম আরও অসাধারণ গল্প পড়ার জন্য।
Touch to join our Facebook group

30/05/2018

মধ্যবিত্তের একদিন

             -:  মধ্যবিত্তের  একদিন  :-
 
  ধবধবে ফর্সা দুটি পা। হালকা গোলাপী নখে মেঝে খুঁটতে খুঁটতে মেয়েটি জবাব দিল,

- আজকে পড়তে ইচ্ছা করছে না স্যার।
-কেন? 
-এমনি। আজ নাহয় গল্প করি? 
- আন্টি কোথায়? 
-মা তো খালামনির বাসায়।ফিরতে রাত হবে।

কথাটা শুনে রায়হানের তামাটে মুখে কেমন আঁধার নেমে এল। সাত তারিখ চলছে। এরা মাসের চার-পাঁচ তারিখের মাঝে বেতন দেয়। দু একদিন দেরি এমন কিছু নয়। কিন্তু আজ তার টাকাটা ভীষণ দরকার। 

আজকের পড়াগুলো রিভাইজ দিতে বলে রায়হান চেয়ার ছেড়ে উঠল।মেয়েটি জানালার দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে বলল,
-একটু বসে যান। বজ্রপাত হচ্ছে।যেকোন সময় বৃষ্টি নামবে।
-আসুক বৃষ্টি।
-ছাতা দিব? 
-দরকার নেই।

সিঁড়ি বেয়ে পাঁচ তলা নামতে না নামতেই হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নামল। দু'কদম এগিয়ে সে চায়ের দোকানে আশ্রয় নিল।

-একটা পলিথিন দেন মামা, ফোন ভিজে যাবে।
দোকানি কোনো কথা না বলে বিরস মুখে সাদা পলিথিন এগিয়ে দিল। রায়হানের  প্যান্টের বামপাশে ভাইব্রেশন জানান দিল ফোন এসেছে। রিসিভ করতে ওপাশ থেকে সিয়ামের উত্তেজিত চিৎকার,

- আরে দোস্ত, বাংলাদেশ জিতে গেল। আর তোর খবরই নাই।
- টিউশনে ছিলাম।
- আচ্ছা।তাড়াতাড়ি আয় দোস্ত।আমাদের বাড়ি পার্টির আয়োজন চলছে।কাচ্চি বিরিয়ানী..

- দূর। কী বলিস বৃষ্টিতে কিছুই বোঝা যাচ্ছে  না। হ্যালো..... হ্যালো...

রায়হান  ফোন অফ করে পলিথিনে মুড়িয়ে নিল। শতচ্ছিন্ন মানিব্যাগের এক কোণায় দুটো দশ টাকার নোটের দিকে তাকিয়ে নিশব্দে হাসল। দোকানি আর কয়েকজনকে অবাক করে দিয়ে ঝুম বৃষ্টির মাঝে বেরিয়ে এলো।  লম্বা লম্বা পা ফেলে হাঁটছে।টাকাটা আজ তার ভীষণ দরকার।

বড় ফুপুর ফ্লাটের সামনে এসে রায়হান খেয়াল করল শরীর বেয়ে টুপটুপ করে পানি পরছে।এ অবস্থায় ভিতরে ঢুকলে বড় ফুপু মোটেও খুশি হবেন না।শত হোক, তার এত শখের কার্পেট।  কলিংবেল চেপে রায়হান মনে মনে প্রার্থনা করল,  বড় ফুপু যেন দরজা না খোলেন। দরজা খুলল প্রদীপ। বড় ফুপুর একমাত্র ছেলে। ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট বয়। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। উজ্জ্বল চোখে তাকিয়ে  জিজ্ঞেস বলল,

-রায়হান ভাই, কেমন আছ? 
-ভালো।  ফুপু কোথায়?
-ঘুমাচ্ছে। তুমি ভিতরে এসে বসো।

-ভেজা শরীরে আর ভিতরে ঢুকব না।তোর কাছে পাঁচশ টাকা হবে? 

-ইয়ে... কাল পরশু দিলে হবে না?  আজ নেহার সাথে ডেট ছিল।

-থাক লাগবে না। যাই তাহলে।

রায়হান যাবার জন্য পা বাড়াল।পিছন থেকে প্রদীপ ডাকল,
-রায়হান ভাই রাগ করলে?
শুষ্ক মুখে বিরস হাসি ফুটিয়ে রায়হান উত্তর দিল,
-রাগব কেন?  ভাল থাকিস।

রাস্তার মোড়ের মুদি দোকান এখনও বন্ধ হয় নি।সামনের বেঞ্চিতে পা ছড়িয়ে বসে রায়হান অর্ডার দিল,

-আবুল ভাই, এক কাপ চা দেন।

দোকানে ভীড় নেই। আবুল মিয়া ধোঁয়া ওঠা রঙ চা হাতে দিয়ে খকখক করে কেশে উঠল। একটু কাশি থামতে জিজ্ঞেস করল,
- বৃষ্টিতে ভিজছেন কেমনে ভাইসাব?
রায়হান উত্তর না দিয়ে মাথা নাড়ল।
-মন মেজাজ খারাপ নি?
রায়হান এবারো চুপ।
আবুল মিয়া পাঁচটা একশ টাকার নোট বেঞ্চে রেখে বলল,
-আপনের তো মাসের শুরুতে টেকা লাগে না। আজ হঠাৎ এত দরকার..

দুই চুমুকে গরম চা শেষ করে রায়হান উত্তর দিল,
-দশ তারিখের আগে টাকা দিয়ে যাব। চায়ের দাম রাখো...

দুই কামরার ঘর।সামনের বারান্দার চৌকিতে রায়হান ঘুমায়। তার একপাশে মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে সবাই খাওয়াদাওয়া করে।

রায়হানের প্লেটে পালংশাক তুলে দিয়ে মা বলল,
-শরীরটা ভালো না।আজ শাকপাতা দিয়েই খা।মাছ রাঁধতে পারলাম না।
এ বাড়িতে সপ্তাহে চারদিন  পাঁচ মেশালি তরকারীই ভরসা। এক দিন ডিম, দু'দিন টেনেটুনে মাছের যোগাড় হয়। তবু কী সুন্দর অভিনয়! 

রায়হান আর এক চামচ ভাত প্লেটে নিয়ে বলল,
-বাবা ঘুমিয়ে গেছে?
-হুম।
-নীতু?
-ও ঘুমিয়ে গেছে।
রায়হান একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
;
;
খাওয়া শেষে রায়হান পা টিপে টিপে নীতুর ঘরে এলো।এতবড় মেয়ে এখনো হা করে ঘুমায়। দেয়ালে কিছু কাঁচা হাতে আঁকা ছবি।মেয়েটি ছবি আঁকতে বড় ভালোবাসে। পাশের নর্দমা থেকে পচা দূর্গন্ধের সাথে সাথে ইয়া বড় বড় মশারা বেড়াতে আসে। অলস মেয়েটা তবু মশারি টানাতে ভুলে যায়। রায়হান আলগোছে নীতুর খাটে মশারি টানিয়ে বালিশের একপাশে নতুন কেনা জ্যামিতি বক্স আর জলরঙের বক্স রাখল। মাথায় হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল,

-শুভ জন্মদিন ছোট বোন.....

#সমাপ্ত

লেখিকাঃ HABIBA SARKAR HILA
আমাদের গ্রুপ জয়েন করতে touch here

27/05/2018

ঘুমকাতুরে

                  -:  ঘুমকাতুরে   :-



টিফিন পিরিয়ডে সবাই যখন খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত, তখন আমি ব্যাগ থেকে ছোট বালিশটা বের করে জায়গা খুঁজি একটু ঘুমানোর।পিছনের ব্যাঞ্চ টা খালি আছে দেখেই বালিশটা নিয়ে চলে গেলাম।বন্ধু রহিম কে বললাম টিফিন পিরিয়ড  শেষ হওয়ার দশমিনিট আগে যেন আমাকে জাগিয়ে দেয়।ক্লাসে সবাই মোটামুটি আমার ঘুম সম্পর্কে জানে।দেরি না করে দ্রুত লো ব্যাঞ্চে বসে হাই ব্যাঞ্চে বালিশের উপর মাথাটা রাখতেই আমি ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ কারো হাত দ্বারা আমার কোমরে চিমটি কাঁটার আঘাতে ঘুম ভাঙে।চোখ খুলতেই দেখি আমার মাথার উপরে এবং চারপাশে স্কুল ব্যাগের স্তূপ! শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে মাথাটা উপরে তুলতেই চারপাশে ব্যাগ গুলো ছিটকে পড়ে।সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে উঠে।রফিক স্যারের আমার দিকে তাকানোর ভঙ্গি টা দেখে বুঝতে পারলাম বিজ্ঞান ক্লাস শেষের দিকে।মনে মনে বন্ধু রহিম কে ১০১ বার গালিগালাজ করলাম।স্যার আমার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ভয়ে চুপসে গেলাম।


ভাবলাম মাইর আজকে একটা ও মাটিতে পড়বেনা।নিজ দায়িত্বে পিঠটা স্যারের দিকে এগিয়ে দিলাম।স্যার আমার পিঠে চড় মেরে বলল,"সাবাস! !আগামী বছর থেকে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী সভায় তোমার ঘুমের জন্যও একটা পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকবে।ক্লাসের সবাই আবার হো হো করে হেসে উঠলো, সাথে স্যারও। ভাগ্যিস সামিয়া আজ ক্লাসে উপস্থিত নেই।থাকলে হয়তো ,একুশ দিনের গড়ে তোলা সম্পর্ক টাকে নিমিষে সাতপাঁচ না ভেবেই ভেঙে দিতো।পরের দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে স্কুল বন্ধ।সামিয়া কে নিয়ে বৈশাখী মেলায় ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান আছে।
সকাল দশটা বেজে পনেরো মিনিটে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করলাম।এগারো টায় সামিয়ার পছন্দের লাল টিশার্ট পড়ে রওনা দিলাম।সিএনজি তে উঠে সামিয়া কে ফোন করে বললাম বের হতে।
গাড়ির ভিতর কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম মনে নেই।ঘুম ভাঙতেই হাত ঘড়িটার দিকে তাকাতে দেখি বিকাল চারটা বেজে পঁচিশ মিনিট।ড্রাইভার তার আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছে।ইচ্ছে করছে নিজের কপাল নিজে ফাটাই। পকেট থেকে দ্রুত ফোন টা বের করে সামিয়া কে কল দিব ঠিক তখনি বন্ধু রহিমের নাম্বার থেকে কল আসে।রিসিভ করে কিছু বলার আগেই রহিম বললো, "দোস্ত!আমি জানি তুই এরকম একটা কাণ্ড আজ ঠিকই করবি।চিন্তা করিসনা সামিয়া কে নিয়ে আমি মেলায় অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে নিজ দায়িত্বে বাড়ি পৌছে দিছি।"মেজাজ তখন একশো।কিছু বলতে চাচ্ছি রহিম আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো,"আরে দোস্ত কোন ধন্যবাদ দেওয়া লাগবনা তোর।বন্ধু হয়ে যদি এটুকু করতে না পারি তাহলে কেমন বন্ধু!"রাগে সিএনজি থেকে নেমে গাড়ি ভাড়া না দিয়ে চলে যাবো এমন সময় ড্রাইভার হাত ধরে টান দিয়ে বললো, "ভাড়া পাঁচশো টাকা বের করেন।"মানে কি পঞ্চাশ টাকার ভাড়া পাঁচশো টাকা দিব কেনো?
"আরে ভাই আপনাকে এক জায়গায় দশবার আনা নেওয়া করছি।"শালা এক জায়গা দশবার আনা নেওয়া করলি,আর আমারে একবারো ডাকতে পারলিনা।ড্রাইবার গরম করে বললো, "ভাই আমি আনা-নেওয়ার কাজ করি।ডাকাডাকির না।"আর কিছু বলার মুখ নেই আমার পাঁচশো টাকা দিয়ে ঘরে চলে আসলাম।
সকালে আব্বা টাকা দিয়ে দোকানে পাঠালো বাজার আনতে। মকবুল চাচার দোকানে দেখি মানুষের ভিড়।ভাবলাম একটা ব্যাঞ্চ আছে ঐ টাতে বসে একটু জিরোয়।চাচা ফ্রি হলে বাজার নিব।


একটু জিরানো যে কখন দুপুর দুইটা পার করে দিলো টেরও পেলামনা দ্রুত বাজার করে ঘরের দিকে রওনা দিলাম।আম্মা-আব্বা না জানি বাড়িতে কত চিন্তা করছে।আম্মা-আব্বার চিন্তার কথা ভেবে আমার উচ্চ রক্তচাপ আরো উচ্চ হয়ে যাচ্ছে।
ঘরের দরজায় পা দিবো এমন সময় আম্মা-আব্বার আওয়াজ শুনি।
আম্মা:-আরে তোমার ছেলেতো এখনো আসলোনা বাজার নিয়ে।
আব্বা:-চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নাই রাতুলের মা।পোলার ঘুম ভাঙলেই দেখবা ঘরে আইসা গেছে।
#সমাপ্ত         

#লেখিকা - JINNAT RIMA
আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন আরও গল্প পড়ার জন্য touch here for joining

24/05/2018

সংসার যাঁতাকল

         - :     সংসার   যাঁতাকল    : -



সকাল সকাল চা খেয়ে কালীপদ দত্ত খবরের কাগজ টা নিয়ে বসেছেন। ওনার আবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার অভ্যাস, এমনকি বিজ্ঞাপন টাও ছাড়েন না। ওনার অর্ধাঙ্গিনীটি আবার খবরের কাগজে খুব উদাসীন। তা বলে এটা ভাবার কোন কারন নেই যে উনি দেশের বা দশের খবর রাখেন না। বিলক্ষণ রাখেন, ওনার বিশ্বস্ত খবর‌ওলা মালতীর থেকে। মালতী হল কালী বাবুর বাড়ীর ঠিকে কাজের লোক। বহু পুরোনো আর বিশ্বস্ত। হ্যাঁ তা প্রায় 20 বছর তো হবেই। কালীবাবুর বাড়ির কাছাকাছি ই থাকে সে ,তাই কাজ ছাড়াও দিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার আনাগোনা লেগেই আছে তার।
      "কিগো বাজার টা  বাড়িতে পৌছে দেবার জন্য কি লোক ঠিক করেছো এখনো দেখি খবরের কাগজ গিলে চলেছো ,আমার তো আর তোমার মত বসে আয়েস করা ভাগ্যে নেই ,দুনিয়ার কাজ করতে হয়।একনিশ্বাসে কথা গুলো বলে গেলেন ভারতী দেবী। রান্না টা শেষ করতে না পারলে মালতী এসে কি করবে শুনি? তার ও তো দশটা বাড়ি কাজ করে খেতে হয় নাকি। তোমার মত সুখী কে আছে এই সংসারে"।
     ঘেন্না ধরে গেল এই সংসারে, বলে কালীবাবু উঠলেন। খেলার পাতা টা এখন ও বাকী যাক গে ফিরে এসে পরা যাবে ।পাজামা পরাই ছিলেন উঠে ফতুয়া টা গলিয়ে নিলেন।
বসার ঘরে এসে হাঁক পারলেন বাজারের এর ব্যাগ আর টাকাটা কে দেবে শুনি ,আর কি আনতে হবে সেটাও তো কিছুই জানলাম না। সারাক্ষণ শুধু কাসড় এর মতো বেজেই চলেছ।
    ভুল করলে তার খেসারত তো দিতে ই হয়। রনমূর্তী ধারী ভারতী দেবী ঠাকুরঘর থেকে বেড়িয়ে  এসে, মাইক ছাড়াই সারা পারা শুনতে পায় এমন আওয়াজে যা বললেন তা হল.. " কি আমি কাসড় এর মত বাজি আর সান্নাল এর গিন্নী এক্কেরে কোকিল কন্ঠি নাকি "..।কালীবাবু এবার একটু নরম হয়ে মিষ্টি করে বললেন.."‌আহা আসতে বল শুনতে পাবে যে,ওনাদের আবার টানছ কেন "...,"ঘাট হয়েছে আমার এই কান ধরছি দাও দেখি ব্যাগ টা"....।" চোখের মাথা খেয়েছ নাকি খাবার টেবিলে রাখা আছে দেখতে পাওনা, রোজ ই তো তাই রাখি" বলেই ভারতী দেবী কালীবাবুকে থরহরি কম্প অবস্থান এ ফেলে ঠাকুর ঘরে প্রস্থান করলেন। 


   ভূল টা কালী বাবুর ই সত্যিই  তো গিন্নী রোজ বাজারের ব্যাগ আর তার ভেতরে টাকা আর লিস্ট ঢুকিয়ে খাবার এর টেবিলে ই রাখে। বেড়োনোর আগে কানে এল ঠাকুর ঘর থেকে ভেসে আসা বেসুরো ভক্তিগান। মনে মনে ভাবলেন ভগবানের ও যদি মৃত্যু যোগ থাকতো এতদিনে এই বেসুরো ভক্তির চোটে ওনার ও পঞ্চত্বপ্রাপ্তি হত ।
  কোন এক সরকারী আপিসে কেরানীর কাজ করতেন কালীবাবু , গত এক বছর হলো অবসর নিয়েছেন। এক ছেলে বিদেশে থাকে ।বিদেশী সংস্থায় চাকুরি করে। ব‌উ, মে নিয়ে সেও ভালই আছে। বছরে একবার দেশে ফেরে।  নয়তো সারা বছর এই বুড়ো বুড়ির এই ভাবে ই কাটে। কালীবাবুর সময় থেকে তার পরিবার টা বেশ ছোট। তিনি নিজে ও একটি সন্তান। দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে তার মাতৃদেবী ও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। সৎমায়ের কাল্পনিক ভয়ানক রুপে ভীত হয়ে  তার পিতৃদেব ও নিজেকে সমস্ত জাগতিক সুখ থেকে বঞ্চিত করেছেন। কালীবাবু তার ঠাকুরমার কাছে ই মানুষ হয়েছেন। তিনি যদিও বহুবছর অবধি চেষ্টা চালিয়ে গেছেন দ্বিতীয় বিবাহের প্রয়োজনীয়তা বোঝাবার কিন্তু কালীবাবুর পিতৃদেব সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
    কালীবাবুর বাড়ির পরে ই অনিমেষ সান্যাল এর বাড়ি। বেশ বড়ো আর সাজানো গোছানো বাড়ি, দেখলে মনে ই হয় সুখ আর বৈভবের প্রাচুর্যে ভরপুর। বছর তিনেক মতো হবে ওনারা এখানে এসেছেন। বয়সে কালীবাবুর থেকে খানিকটা ছোট ই হবে। চেহারা  ও বেশ সুন্দর। পোষাক আষাকে আভিজাত্যের ঝলক। মনে মনে হিংসে যে হয়না তা নয় তবে হিংসেটা যদি টাকা পয়সা দিয়ে শুধু হতো সমস্যা ছিলো না। হিংসেটা যে অন্য জায়গায় বেশী। সেটা বোধহয় খানিক প্রকাশ ও পায় ন‌ইলে তার ভয়ঙ্করী গিন্নী বোঝে কি করে?
    গিন্নীর চিন্তা মাথায় আসতেই কালীবাবু গতি যেন নিজে থেকে ই বেড়ে গেল।
      উফ্ফ যার জ্বালা সেই বোঝে......



                                                                
                        
  #সমাপ্ত
#লেখিকা  -. Soma Dutta Das
আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন আরও গল্প পড়ার জন্য touch here for joining
(Original owner plz contact us)
                                                          

এক অচেনাকে চেনার কথা

       -: এক অচেনাকে চেনার কথা :-




মেয়েটি :-এই যে মিস্টার ,শুনছেন....? এত রাতে আমার প্রোফাইলে ঘোরাঘুরি কিসের জন্য..?
ছেলেটা:- কী আশ্চর্য আমি কখন আপনার প্রোফাইলে ঘোরাঘুরি করলাম আজব তো...?
-- তাই নাকি...! তাহলে পোক মারলেন যে...?
-- সে আমি জানি কি তা হয়তো আঙ্গুলের ডগায় লেগে হয়ে গেছে...!!
-- ওহ তাই নাকি.. কারো প্রোফাইলে অযথা না ঘোরাঘুরি করলে আপনা, আপনি পোক হয়ে যায় জানা ছিল না...!!
-- আচ্ছা আপনাকে একটা কথা বলি ....?
-- হ্যাঁ বলেন....!
-- একটা পোকই তো মারছি এরজন্য এত রিয়্যাক্ট করার কী আছে...?
-- আচ্ছা ঠিক আছে...!
-- পাঁচ মিনিট আপনার সাথে কথা বলা যাবে..?
-- কেন আমি আন-নোন কারো সাথে কথা বলি না ভাল লাগে না...!!
-- আরে মাত্র পাঁচমিনিটই তো কথা দিচ্ছি আর বেশি সময় নিব না...!
-- আচ্ছা কী বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন আমি এখন ঘুমোতে যাবো...?
-- আচ্ছা আপনি কেন প্রোফাইলে নিজের পিক ইউজ করেন না...! জানতে পারি কী..!
-- সেটা আমার সম্পূর্ণ পারসোনাল ম্যাটার তা আপনাকে বলতে যাব কেন...?
-- তাহলে আপনি খুব সুন্দরী তাই না...! এরজন্য নিজের রুপটা কাউকে দেখান না...?
-- জি না.. ধরে নিন আমি এতটাই কালো যে আফ্রিকা, বা কেনিয়ার মানুষের চাইতে কালো ঠিক যেমন বনসাই বৃক্ষ আর মানুষ দেখে ভয় পাবে বলে কারো সামনে আসি না।নিজেকে আড়াল করে রেখেছি। নয়তো এতটাই রুপবতী যে ডানা কাটা পরীকেও হার মানাবে।
আমার রুপ দেখে ছেলেরা পাগল হয়ে যাবে তাই নিজেকে সবার আড়ালে রাখতে পছন্দ করি।
-- বাহ আপনি তো খুবই ইন্টারেস্টিং মানুষ...! ওয়েল ডান আই লাইক ইট...! সে যাই হোক আপনার চোখ দুটো কিন্তু টানা,টানা কাজল কালো চোখ বেশ মায়া,মায়া ভাব। চোখের নেশা বড় নেশা।আপনার চোখের প্রেমে পড়ে গিয়েছি।।
-- এই যে শুনুন এত রাতে আপনার সাথে ফালতু বকবকানি আর ভাল লাগছে না...! ভাল থাকবেন বাই...!
-- গুডনাইট অন্তত বলতে হয় কাউকে। এ কেমন মেয়ে।মিনিমাম ভদ্রতার লেশ টুকু নেই...! আজব মেয়ে !!
(আমি ঠিক বেহায়য়ার মতো মেয়েটিকে আবার সকাল বেলা মেসেজ করলাম..! সিন করল কিন্তু কোন রিপ্লাই দিল না..! (
-- নিজেকে কি মনে করেন বলুন তো...!
এতগুলো মেসেজ দিলাম একটারও রিপ্লাই দিলেন না যে..! একটা কথা বলার ছিল আপনার নামটা কিন্তু বেশ ভাল..! জান্নাতুল হিমি..! সো নাইস!
-- ধন্যবাদ কিন্তু আপনার মতো এত গাঁয়ে পড়া লোক আর দেখিনি কোনদিন...?
শোনেন মিস্টার কথা কম বললে ভাল হয়...!
-- এত মিস্টার, মিস্টার বলেন কেন...? আমার নাম তো শিয়াব এ নামে ডাকলে খুশি হব..!
-- আচ্ছা ঠিক আছে..! আপনি কি সবসময় বেশি কথা বলেন...?
-- মোটেও না..! আচ্ছা আপনার যদি মনে হয় আমি বেশি কথা বলি তাহলে আর ডিস্টার্ব করব না...!
-- সেটাই ভাল হবে আপনার জন্য....!
-- ওকে কথা দিচ্ছি আর নিজে থেকে কথা বলব না। এই বলে ফেবু থেকে বেরিয়ে পড়লাম...!
-- একদিন পর ফেবুতে ঢুকেই দেখি হিমির
মেসেজ। আপনি কি মাইন্ড করলেন...! সরি
আপনাকে বোধহয় অনেক কথা শুনিয়ে দিয়েছি।।
-- ইটস ওকে আমি কিছু মনে করিনি...!
(এভাবে রোজ হিমির সাথে আমার কথা হত। আস্তে,আস্তে আমাদের রিলেশন টা বন্ধুত্বে পরিণত হল। নিজে থেকে কোনদিন বলিনি ওকে যে তোমার একটা পিক দিবে কি...? তাই সেও আমাকে তার কোন পিক দেইনি।তবে আমি ওকে রোজ পিক দিতাম। )
-- একদিন আমি হিমিকে বললাম আমরা তো একই শহরে থাকি চল না একদিন দেখা করি...!
-- তা হয় না আমি একা কোথায় ঘুরতে যাই না...!
-- তাহলে একা আসার দরকার নেই।তোমার কোন ফ্রেন্ড কে নিয়ে এসো...!অনেক জোরাজুরির পর হিমি রাজি হল।আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমাকে তো আমি কোনদিন দেখিনি তাহলে চিনবো কি করে...! হিমি আমাকে বলেছিল তার কোন দরকার হবে না।আমি তো তোমাকে চিনি আমি না হয় তোমাকে খুঁজে নিব।
(এই দু বছরে হিমিকে কোনদিন মুখ ফোটে
বলিনি যে আমি ওকে ভালোবাসি। শুধু একটা ভয়ে যদি আমাকে ও ফিরিয়ে দেয়।যদিও আমাদের সম্পর্ক টা হল বন্ধুত্বের। কিন্তু আমি নিজেও জানি না।কখন যে নিজের অজান্তে ওকে ভালোবেসে ফেলেছি আমি নিজেও জানি না। আজ বার, বার মনে পড়ছে ওর
সাথে আমার প্রথম পরিচয় আর প্রথম কথা ঝগড়া দিয়ে। মজার ব্যাপার হল সেই ঝগড়াটে মেয়ে আজ আমার হৃদয়ের একটা বিশাল জায়গা জোড়ে আছে...! )



      পুরোদিন নিজের জন্য শপিং আর হিমির জন্য একটা নীল শাড়ি আনলাম। অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।কখন ওর সাথে দেখা করব আর নিজের
মনের না বলা সেই কথা বলব সেটা ভাবছি।।
বাসায় ফিরে আমি রীতিমত আশ্চর্য হলাম।একগাদা মেহমান। ছোট বোনটিকে জিজ্ঞেস করলাম আজ হঠাৎ বড়,আপা মেঝ আপা দুলাভাইসহ এত মেহমান কেন...?
ভাইয়া গুড নিউজ আছে কালকে তোর বিয়ের পাকা
কথা দিতে সবাই যাবে।তোর জন্য বউ দেখতে
যাব সবাই..! মাঝখান থেকে দুলাভাইরা বলে উঠলো
শুধু দেখতে নয়।কালই পাকা কথাদিয়ে আসবো।
আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।।
বিয়ে করব আমি কিন্তু কেউ আমার মতামত নেবার
প্রয়োজন মনে করেনি।তাছাড়া আমি হিমিকে
ভালোবাসি আমার এতদিনের অপেক্ষার অবসান
ঘটবে আমি ওর সাথে দেখা করব কাল ওকে কথা
দিয়েছি। না আমি এই বিয়ে করতে পারব না। মাকে
অনেক বুঝালাম কিন্তু কোন কাজে আসলো না।
এদিকে হিমির সাথে যোগাযোগ করার অনেক
চেষ্টা করেছি কিন্তু তাঁর এফবি আইডি বন্ধ।
 
পরদিন মেয়ে দেখতে গেলাম।হিমির সাথে আর
কোন যোগাযোগ হয়নি।নিজেকে খুব অপরাধী
মনে হচ্ছে।আমার বন্ধুরা ঠিকই আমাকে অপদার্থ
বলে নয়তো একটা মেয়ের সাথে এতদিন
থেকে পরিচয় ওর মোবাইল নাম্বারটাও নিতে পারিনি।
আর অবশ্য কেউ নিজে থেকে না দিলে আমি পাই
কি করে...!
মাথায় বড় ঘোমটা দিয়ে মেয়েটা কে নিয়ে আসা
হল। মুড নেই তাকাবার তারপরও আড় চোখে
তাকিয়ে আছি।মেয়েটির চোখ দুটো খুব
চেনা,চেনা মনে হচ্ছে।দিঘল কালো চোখ,
গাঁয়ের রং সামলা তবে আমার থেকে পরিষ্কার নয়
এতটা।খুব বেশি একটা হাইট নেই।দেখে মনে
হবে রোগা।ঠিকমতো খাওয়া, ধাওয়া করে না।
সবাই মেয়েটাকে প্রশ্ন করছে, মেয়েটিও
চেষ্টা করছে ঠিকঠাক উত্তর দেয়ার। অবশেষ
বিয়ের ডেটও ফিক্সড হয়ে গেল। সবাই বলাবলি
করছে কিরে শিয়াব তুই কি হিমির সাথে আলাদাভাবে
কথাবলবি। প্রথমে রাজি হলাম না। সবাই যখন আমার
মতামত না নিয়ে বিয়ে ঠিক করে ফেলছে তাহলে
আমার আর কিছু বলার নেই।কিন্তু নামটা শোনার পর
আমার বুকটা যেন কেমন করে উঠলো। এই কি
সেই হিমি যাকে আমি ভালোবাসি। হতে পারে
নয়তো এতটা মিল কি করে হয়।
তারপর আমি আর হিমি একান্ত কথা বললাম। কিন্তু
মেয়েটা এতটাই লাজুক যে ওর মুখ দিয়ে কথাই
বের হচ্ছে না। কিভাবে শুরু করব কথা বুঝতে পারছি
না।শেষপর্যন্ত নিরুপায় হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে
পড়লাম।
বিয়ে হয়ে গেল ঠিক একসপ্তাহ পর।হিমির সাথে
আর কোন যোগাযোগ হয়নি।বিয়ের রাতেসবাই বাসর ঘরে
ঢুকিয়ে দিল।
-- এই যে মিস্টার এতক্ষণে আপনার আসার সময় হল। নতুন বউকে এতক্ষণ হুদাই অপেক্ষা করিয়ে
রাখলেন। আজব  মানুষ!!
আমি তো ওর কথা শুনে অবাক। এভাবে হিমিও আমার
সাথে কথা বলতো।আর কয়দিন আগেও যে
মেয়ের মুখে কোন কথা বের হয়নি।আজ যেন
কথার খই ফোটছে।
-- এই তুমি আসলে কে বলতো...?
-- কী আশ্চর্য আমি তো হিমি..!
-- সেটা নয়..! তুমি কি সেই হিমি যার সাথে আমার
ফেসবুকে রোজ কথা হত...!
-- বাহ কী দারুণ. .!আপনি অন্য মেয়ের সাথে
রোজ কথা বলতেন আর বিয়ে করলেন কি না অন্য
একটা মেয়েকে..! অনেক খারাপ একটা লোক আপনি।
-- শুধু কথা নয়।আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু
বলার সুযোগ পায়নি।
-- তাহলে মেয়েটা কি আপনাকে ধোকা দিয়ে
চলে গেছে. ..?
-- নাহ হঠাৎ করে উদাও হয়ে গেছে...!
-- শোনেন মিস্টার শিয়াব আমিও একটা ছেলেকে
ভালোবাসি কিন্তু আমি আপনার মত এতটা অপদার্থ নয়।
আমি যাকে ভালোবাসি তাকে সোজা বিয়ে করেছি।
-- আমি হিমির কথা শুনে বিস্মৃত হলাম।তুমি আমার সাথে
কেন এমন করলে হিমি।আমাকে কেন এভাবে তুমি
কষ্ট দিলে...?
-- কষ্ট কি তুমি একা পেয়েছো।আমি পাইনি। একটা
মেয়েকে ভালবাসো তাকে বলতে পারনি
কোনদিন। অথচ বিয়ে করতে চলে আসলে অন্য
একটা মেয়েকে..!ভাগ্যিস আমি তোমার ছবি
দেখে নিয়েছিলাম। নয়তো আমি এ বিয়ে করতাম
না।
-- আর তুমিও কম কিসে সব জেনেও আমাকে কিছু
বলনি।
শোননা সরি ক্ষমা করে দাও না।আর এমনটি হবে না।
-- হইছে আর ন্যাকা সাজতে হবে।
--একটা কথা জানার ছিল।তুমি যে আমাকে এতটা
ভালোবাস আগে কেন বলনি?
-- চান্স পেলাম কোথায়. .!আর সেইজন্য তো
যাকে ভালোবাসি সোজা তাকে বিয়ে করে নিলাম।
-- আজ আমি অনেক খুশি।যাকে ভালোবাসি সেই
অচেনা মেয়েটি আজ আমার জীবন সঙ্গী. ..!
আমি জীবনে কল্পনা করিনি।তোমাকে আমি
জীবন সঙ্গী হিসেবে পাব.......!








@সমাপ্ত
লেখক:- Taslima Amrin.
আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন এরকম আরও অসাধারণ গল্প পড়ার জন্য।
Touch here for join

 (Original owner plz contact us..)